লস অ্যাঞ্জেলেসে হাজারো মানুষের মিছিল, নিউইয়র্কে সমাবেশ; ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ
ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র — ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন ও প্রাণঘাতী সহিংসতার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে রোববার ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসী ইরানিরা। বিক্ষোভকারীরা ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। একই দিনে নিউইয়র্কে কয়েকশ মানুষ সমাবেশ করেন।
বিক্ষোভকারীরা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যেখানে লেখা ছিল— ‘নতুন হলোকাস্ট’, ‘চলমান গণহত্যা’ এবং ইরানি সরকারের ‘সন্ত্রাস’ বন্ধের আহ্বান। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পেরি ফারাজ বলেন, চলতি সপ্তাহে ইরানে বিক্ষোভ চলাকালে তার ছোট চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন, যা তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে যোগাযোগ ব্ল্যাকআউট ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের ফলে আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য তারা যাচাই করেছে। তবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আলি পারভানেহ বলেন, “জনগণের ওপর এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ভীষণভাবে কষ্টদায়ক।” অনেক বিক্ষোভকারী ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কেউ কেউ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার দাবিও তোলেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভে ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পুত্র রেজা পাহলভির সমর্থনে স্লোগান শোনা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহলভির সমর্থন মূলত প্রবাসী ইরানিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, ইরানের ভেতরে তার রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত।
এই বিক্ষোভের মাধ্যমে প্রবাসী ইরানিরা নিজ দেশে চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তবে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দেশটির অভ্যন্তরীণ জনগণের হাতেই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।