ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও স্বাধীন মতপ্রকাশে বাধা দিতেই জামায়াত পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও সাইবার বুলিং চালাচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া একাধিক নারী উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, “আপনারা নারীদের পরিপূর্ণ বিকাশ চান না। তারা একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিক কিংবা একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিক— তা আপনারা চান না। অথচ নারীদের দিয়েই ভোট চাইছেন। এখানেই আপনাদের গলদ। আপনারা ক্ষমতায় এলে এই দেশে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা।”
তিনি জানান, সারা দেশে বিরোধী মতের নারীদের টার্গেট করে সাইবার বুলিং চালানো হচ্ছে। ধর্মের নাম ব্যবহার করে নারীদের অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জামায়াতের তথাকথিত বট বাহিনী ও মব বাহিনী সমাজকে ভয়ংকর অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
রিজভী আরও বলেন, ভোট পাওয়ার আশায় জামায়াত বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। একেক নেতার মুখ থেকে একেক রকম কথা বের হচ্ছে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তারা ইতর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম জানান, তার বাসায় হুমকি দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তবে চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে আমাকে বা আমার মতো নারীদের থামানো যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “তারা নারীবিরোধী নয়— তারা সেই নারীদের বিরোধী, যারা ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। নারীকে তারা ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার জন্য, জান্নাতের টিকিট বিক্রির জন্য।”
এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি অন্য দলের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তাদের কাছে শুধু তাদের দলের নারীরাই যোগ্য, পর্দানশীল ও চরিত্রসম্পন্ন। ভিন্ন মতাদর্শী নারীরা তাদের কাছে চরিত্রহীন ও ইসলামবিদ্বেষী।”
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের একটি ‘স্পেশাল ফোর্স’ বট বাহিনী রয়েছে, যারা অনলাইনে বিরোধী দলের নারী নেত্রী ও নারী অধিকারকর্মীদের টার্গেট করে হুমকি, সাইবার বুলিং ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এর উদ্দেশ্য নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে বসিয়ে রাখা।
খাদিজাতুল কুবরা আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি ১৫ মাস কারাবন্দি ছিলেন। “বাক্স্বাধীনতার জন্য জেল খেটেছি। আইন বাতিল হয়েছে। আর এখন তার ফল হিসেবে পাচ্ছি লাগামহীন সাইবার বুলিং,”— বলেন তিনি।