ইংরেজীতে একটি কথা আছে, “Give a dog a bad name and hang him”. এর প্রকৃত অর্থ হলো, “গাঙ ডিঙালে, কুমিরকে কলা।”
তবে সরল অর্থটা বাঙালীর জন্য প্রযোজ্য। যদি কাউকে হত্যা করতে হয়, তবে তাকে আগে বিতর্কিত করা লাগে। এটা জার্মানীতে পল জোসেফ গোয়েবলস এপ্লাই করেছিলো। জার্মানীতে ইহুদী হত্যাকে যৌক্তিক করতে তাদের সম্পর্কে প্রচুর মিথ্যা ছড়িয়েছিলো এই গোয়েবলস। হিটলারের প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার বিখ্যাত একটি কথা আছে, “শতমুখে মিথ্যা ছড়িয়ে দিতে পারলে তা সত্যে পরিণত হয়।”
মিথ্যা প্রচারের এই সুত্র গোয়েবলসীয় সূত্র বলেই পরিচিত। এটি বিভিন্ন দেশেই রাজনীতির অপশক্তিগুলো ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশে সম্ভবতঃ এর অপপ্রয়োগ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। নিকট অতীতে তার বড় উদাহরণ রয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর উদাহরণটিই ভাবুন। তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে। তিনি পীরের উত্তরাধিকার ছিলেন। সেটা কনটিনিউ করলে পুরো দেশে তার মুরিদের সংখ্যা কী পরিমাণে হতো কল্পণা করা কঠিন নয়। হয়তো শেখ পরিবারের অনেকেও তার মুরিদ হতো। সেই সাঈদী সাহেবকে বিতর্কিত করতে গোয়েবলসীয় সূত্র ব্যবহার করা হয়। যে সাঈদী ৭১ এ কোন রাজনীতিই করতেন না, গ্রামে গঞ্জে ওয়াজ মাহফিল করতেন সেই সাঈদীকেই যুদ্ধাপরাধী নাম দেওয়া হলো। ইংরেজী সেই বাক্যের Give him a bad name অংশটুকুর কাজ শেষ করা হলো। তারপর তাকে Hang অর্থাৎ ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলো।
এই প্রক্রিয়া এখনও চলমান আছে। আপনি খেয়াল করে দেখেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিবিরের নামে সবচেয়ে বড় অপপ্রচার ছিলো, “শিবির রগ কাটে”। এই গোয়েবলসীয় প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পাসগুলোতে টেকেনি। স্টুডেন্টরা দেখলো এটি মিথ্যা প্রচারণা। ব্যস! একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেল ক্যাম্পাসগুলোতে।
ডাকসু নির্বাচনে সাবিকুন্নাহার তামান্নার ছবিকে শিং এঁকে দৈত্য বানানোর কথাটি মনে পড়ে? সেই হিজাবী মেয়েটিই সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে ডাকসু নির্বাহী সদস্য পদে জিতে আসলো। হওজাব বিরোধী প্রোপাগান্ডা কাজে লাগেনি। তখন বললো, ঢাবির সচেতন মেয়েরা শিবিরকে ভোট দিবেনা। সেটার জবাবও ঢাবির মেধাবী ছাত্রীরা দেখিয়ে দিয়েছে।
একটি পক্ষ প্রচার করছিলো, মহিলা নেই জামায়াতে। এমনকি টকশ’তে আসার মতো মেয়েও নেই। টকশ’তে জামায়াত নারী পাঠালো। মিছিলে রাজপথ কাঁপিয়ে দিলো জামায়াতে উইমেন উইং। জরীপে দেখা গেল মহিলাদের অধিকাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে জামায়াত। গোয়েবলস সাহেবের সূত্র হাজির হলো। একাউন্ট নয় স্বয়ং সরকারী অফিসের কর্মকর্তার সহায়তায়, সরকারী দপ্তরের মেইল ব্যবহার করে একাউন্টের পরিবর্তে ডিভাইস হ্যাক করা হলো আমীরে জামায়াতের। নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হলো তার ডিভাইসের এবং বিতর্কিত পোস্ট দেওয়া হলো। জামায়াত বিরোধী রাম বাম এবং তথাকথিত প্রগতিশীল মহিলারা ঝাঁপিয়ে পড়লো। তারা কেউ প্রশ্ন তুললো না, “ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ডকুমেন্টেড করছে অথচ মুখে বলছেনা কেন? একটা দলের প্রধান নির্বাচনের ১২ দিন আগে কেন নিজের ভোট নষ্ট করার মতো কথা বলবে?”
এই মিথ্যাচার এবং ষড়যন্ত্রে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র আছে বলে বলে আমার মনে হয়। সময়ই সেটার জবাব দিবে।
মিথ্যাচার এবং অপবাদকারীদের ফল ভালো হয় না। ইসলাম ধর্মে ফাসেক ব্যক্তির ডেফিনেশন দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, “সেই ফাসেক, যে কিনা যা শুনলো তাই প্রচার করলো। কোন যাচাই-বাছাই করলো না।”
এই ফাসেক এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যাচারকারীর শেষ পরিণতি কী হয় জানেন? হ্যাঁ ইতিহাসেই আছে। ১৯৪৫ সালে পল জোসেফ গোয়েবলস ১লা মে, প্রথমে তার ছয় সন্তানকে হত্যা করে। তারপর সে ও তার স্ত্রী আত্মহত্যা করে। বর হাল আমলে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পরিণতি তো জানেনই। সাঈদী সাহেবকে হ/ত্যার পর এক বছরও ঘুরতে পারেনা। রান্না করা গরম ভাত না খেয়ে, বিমানযোগে পালাতে হয়েছে।
আগামী ১২ তারিখ নারীদের কল্পনাতীত অংশগ্রহণে নারীরা বর্তমান ষড়যন্ত্র আর প্রোপাগাণ্ডার জবাব দিবে ইংশাআল্লাহ।