কুমিল্লা, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজান উপলক্ষে টিসিবি পাঁচ ধরনের পণ্য সরবরাহ করছে—চিনি (১ কেজি), মশুর ডাল (২ কেজি), বুট (১ কেজি), সয়াবিন তেল (২ কেজি) ও খেজুর (৫০০ গ্রাম)। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি কেজিতে ১০০ গ্রাম, দুই কেজিতে ২০০ গ্রাম এবং আধা কেজিতে প্রায় ৫০ গ্রাম কম দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের পর কয়েকজন ক্রেতার পণ্য পুনরায় মেপে দেখা হলে ওজনে ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়ে বলে জানা যায়।
ডিলার পারভিন আক্তার বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য কম দেওয়া হয়নি। ওজন করার সময় ভুল হয়ে থাকতে পারে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ভুল না হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লায় প্রতিদিন পাঁচটি ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। প্রতি ট্রাকে ৪০০ জনের জন্য বরাদ্দ থাকায় দৈনিক প্রায় দুই হাজার পরিবার এ সুবিধা পান। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া নিয়মিত এসব পণ্য বিতরণ করা হয়।
প্রতিজনের জন্য মোট ৬ কেজির বেশি পণ্য বরাদ্দ থাকায় প্রতি কেজিতে ১০০ গ্রাম করে কম দিলে একজনের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম পণ্য কম দেওয়া হচ্ছে। এ হিসাবে প্রতি ট্রাকে প্রায় ২৪ হাজার টাকার সমমূল্যের পণ্য কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাঁচটি ট্রাকে মিলিয়ে তা লক্ষাধিক টাকায় দাঁড়ায়।
টিসিবির পণ্য নিতে আসা রোকসানা আক্তার বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কম দামে পণ্য নিতে আসেন তারা। অথচ এখানে ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে এবং পরিচিতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
বাগিচাগাঁও এলাকার গৃহবধূ তাছলিমা আক্তার অভিযোগ করেন, চেহারা দেখে পণ্য দেওয়া হয়। রেসকোর্স এলাকার ব্যবসায়ী হানিফও দাবি করেন, কয়েকজনের পণ্য মেপে দেখা গেলে প্রতি কেজিতে ১০০ গ্রাম এবং দুই কেজির ডালে ২০০ গ্রাম কম পাওয়া গেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ওজনের কারচুপি দেখতে পায়। পরে ফারুক স্টোরের স্বত্বাধিকারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাউছার মিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং বিধি অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে।
কুমিল্লা টিসিবির উপপরিচালক মামুনুর রশীদ গাজী বলেন, অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন দুই হাজার মানুষকে পণ্য সরবরাহ করা হয়। স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।