ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন ও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ত্রিস্তর নিরাপত্তা বলয় ও গোয়েন্দা তৎপরতায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।
শহীদ মিনারে ত্রিস্তর নিরাপত্তা
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও শহীদ মিনারের আশপাশের প্রবেশপথে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: পুরো এলাকা কয়েকশ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তল্লাশি ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে মূল বেদিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তৎপরতা: ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি কয়েক হাজার সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য জনসমাগমে মিশে দায়িত্ব পালন করবেন।
আকাশে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানিয়েছে, এবারের নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ভিড়ের গতিবিধি ও সন্দেহজনক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
র্যাবের কমান্ডো টিম ও বিশেষ ডগ স্কোয়াড ইতোমধ্যে কয়েক দফা সুইপিং পরিচালনা করেছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও বিশেষ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এবং র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
ট্রাফিক রুট ও চলাচলে বিধিনিষেধ
বিশেষ রুট ম্যাপ অনুযায়ী, শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষকে পলাশী মোড় দিয়ে প্রবেশ করে জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে শহীদ মিনারের মূল গেটে পৌঁছাতে হবে। বের হওয়ার পথ নির্ধারণ করা হয়েছে দোয়েল চত্বর ও চানখাঁরপুল এলাকা দিয়ে।
২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার মধ্যে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাসায় ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সাইবার নজরদারি ও সারাদেশে প্রস্তুতি
ডিএমপি ও র্যাব জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিট ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।
রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়েও বিশেষ নিরাপত্তা টিম গঠন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ শহীদ মিনারের পাশে ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির তথ্য নেই। তবে অমর একুশে উপলক্ষে আগত প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।