শিবালয় (মানিকগঞ্জ) | ০১ মার্চ ২০২৬
ঘন কুয়াশার কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। ফেরি বন্ধ থাকায় দুই প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, এতে ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী ও পরিবহন চালক।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা থেকে রোববার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। অসময়ের ঘন কুয়াশায় নৌপথে দৃষ্টিসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
মাঝনদী ও ঘাটে নোঙর করে ফেরি
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া প্রান্তে ঘাট নম্বর-৩-এ ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ এবং ঘাট নম্বর-৫-এ ‘বিএস ডা. গোলাম মাওলা’ ও ‘বনলতা’ নামের ফেরি নোঙর করে রাখা হয়।
অন্যদিকে দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘাট নম্বর-৩-এ ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ ও ‘ঢাকা’, ঘাট নম্বর-৪-এ ‘বাইগার’ এবং ঘাট নম্বর-৭-এ ‘কেরামত আলী’, ‘শাহ মখদুম’ ও ‘হাসনাহেনা’ ফেরিগুলো অপেক্ষমাণ ছিল।
দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তি
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দুই প্রান্তেই পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মাছ, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
যাত্রীরা জানান, হঠাৎ ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ঘাট এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। ভোরের দিকে কুয়াশা কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। দৃষ্টিসীমা স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন বলেন, “কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। দৃষ্টিসীমা নিরাপদ পর্যায়ে এলে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হয়েছে।”
বর্তমানে নৌরুটে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।