ঢাকা | ১৭ মার্চ ২০২৬
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে লাখো মানুষ। তবে সড়কের বেহাল অবস্থা, সংস্কার কাজ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় দেশের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি পয়েন্টে ঈদযাত্রা থমকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিটও প্রায় শেষ।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে সড়কে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বাড়লেও মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা সেই চাপ সামাল দেওয়ার মতো নয়। ফলে দীর্ঘ যানজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সংকট
উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের প্রধান রুট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের একাধিক পয়েন্টে ইতোমধ্যে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ধলেশ্বরী ব্রিজ এলাকায় সরু প্রবেশপথের কারণে যানবাহন একসঙ্গে চলতে পারছে না। নয়াডিঙ্গি এলাকায় সংস্কার কাজের জন্য এক লেনে যান চলাচল করছে। এছাড়া বারইল, টেপরা ও উথুলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাস থামানোয় যানজটের ঝুঁকি বাড়ছে।
দক্ষিণাঞ্চলগামী রুটে বাধা
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের টেকেরহাট এলাকায় পুরোনো সরু ব্রিজ বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মোস্তফাপুর, গৌরনদী ও ভাঙ্গা-বরিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও বাজার ও যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে গতি কমে যাচ্ছে। রাজবাড়ীর বড়পুল ও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকাতেও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
খুলনা-যশোর মহাসড়কে ভোগান্তি
ঢাকা-খুলনা রুটে ফরিদপুরের কামারখালী টোলপ্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর ও যশোরের প্রেমবাগ এলাকায় সংস্কার কাজের কারণে এক লেনে যান চলাচল করছে। নওয়াপাড়া ও বাসুন্দিয়া বাসস্ট্যান্ডেও একই সমস্যা বিদ্যমান।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দখলদারিত্ব
শান্তিরহাট, দোহাজারী ও গাছবাড়িয়া বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে বাজার বসায় যানজট তৈরি হচ্ছে। গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া কেরানীহাট, পদুয়া, লোহাগাড়া ও চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন থামানোর কারণে জট সৃষ্টি হচ্ছে।
সংযোগস্থল ও শহরাঞ্চলে চাপ
ফরিদপুর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলো এবং মাগুরা শহরের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনও ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ভোগান্তির কারণ ও করণীয়
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অসময়ে সড়ক সংস্কার, অবৈধ হাট-বাজার, ট্রাফিক আইন অমান্য ও উল্টো পথে গাড়ি চালানোই প্রধান সমস্যা। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, অবৈধ বাজার উচ্ছেদ, নির্ধারিত স্থানের বাইরে বাস থামানো বন্ধ এবং টোলপ্লাজায় আধুনিক ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
যাত্রীদের উদ্বেগ
ঘরমুখো মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। রাজধানীর বেসরকারি চাকরিজীবী কামাল আহম্মেদ বলেন, “প্রতি বছরই ঈদের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয়। এবারও সেই আশঙ্কা রয়েছে।”
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি থাকবে।