আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ৯৪ জন যোগ্য কারিগর প্রস্তুত হলো গত পাঁচ দিনে। যারা ইতোমধ্যে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে পথ দেখাতেন, তারা নিজেদেরকে আরো পরিকল্পিত ও সমৃদ্ধ করার মজমায় বসেছিলেন।
বলছি, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী ‘ইমাম প্রশিক্ষণ’-এর কথা।
একটি মহল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত মানুষটি হলেন মসজিদের ইমাম। ইমাম কেবল নামাজের ইমামতিই করেন না, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, পরামর্শ ও দ্বীনি দিকনির্দেশনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু তিনি।
তাই সমকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও দ্বীনি দাওয়াতকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে গভীর ইলমের পাশাপাশি জাগতিক বিষয়েও দক্ষ হওয়া অপরিহার্য।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা ইমাম প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। এর প্রথম ব্যাচে অংশগ্রহণ করার জন্য সারাদেশ থেকে আমাদের কাছে ১২০০ ইমামের আবেদন আসে। সেখান থেকে বাছাই করে আমরা ১০০ জন প্রতিভাবান ইমামকে নির্বাচিত করি। তন্মধ্যে ৯৪ জন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
৫ দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দাঈর গুণাবলি, লিডারশিপ, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, দাওয়াহ ও মনস্তত্ত্ব, মুসলিম মানসে সংসয় ও তার প্রতিকার, সুদমুক্ত সমাজ গঠন, পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শরীরচর্চা, মসজিদকে প্রোডাক্টিভ করার কৌশল, পাবলিক স্পিকিং, টাইম ম্যানেজমেন্ট, ফ্যাক্ট চেকিং ও মডার্ন টুলস ব্যবহারের মতো প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকবৃন্দ।
প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসন ও খাবারসহ যাবতীয় সব ব্যবস্থা ছিল আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ফ্রি। সেই সাথে দূর-দূরান্ত থেকে আগত ইমামদের সম্মানার্থে যাতায়াত খরচও প্রদান করা হয়।
আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা আমাদের ইমাম ভাইদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তাদের মাধ্যমে সমাজে ছড়িয়ে পড়বে সুন্নাহর আলো এবং উন্মোচিত হবে মানবসেবার নতুন দিগন্ত ইনশাআল্লাহ।