ঢাকা, ০৩ মে, ২০২৬ (রবিবার) – রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কনভেনশনের সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এর জন্য আমরা গত ষোলো বছর লড়াই করেছি, বলতে গেলে স্বাধীনতার পর থেকে ৫৫ বছর লড়াই করেছি, যে আকাঙ্ক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে মানুষ জীবন দিয়েছে, যে জন্য চব্বিশে জীবন দিয়েছে, কিন্তু আমরা বারবারই নানান শক্তির বাধায় আমরা হোঁচট খেয়ে যাচ্ছি। যে গণতন্ত্রের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, আমরা দেখলাম মুক্তিযুদ্ধের পরপরই সেই গণতন্ত্রের কবর রচনা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শেখ মুজিবর রহমান দেশে ফ্যাসিবাদ তৈরি করে, গত ষোলো বছরও একই জিনিস দেখলাম। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু আমরা দেখলাম, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর তারা এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নের সাথে আবারও প্রতারণা করছে।’
সংস্কার না করে সংসদের প্রথম অধিবেশন সরকার ব্যর্থ করেছে
গুটিকয়েক সংস্কার নিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঐকমত্য হয়েছিল উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের একটা উচ্চ কক্ষ লাগবে। সংবিধানকে চেক দেয়ার জন্য। টু থার্ড মেজোরিটি নিয়ে যাতে কোনো সরকার সংবিধানকে ইচ্ছেমতো কাটাছেডা করতে না পারে। উচ্চ কক্ষের কাজই হবে চেক এন্ড ব্যালেন্স তৈরি করা। সে উচ্চকক্ষ আমরা বলেছি ভোটের অনুপাতে করতে। কারণ আসন অনুপাতে করলে উচ্চকক্ষের কোনো লাভ নেই। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দলীয় নিয়োগ না হয়, নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ দেওয়া যায়, আমাদের পিএসসি দুদক যাতে নিরপেক্ষ হয়, আমরা সেটার জন্য দাবি জানিয়েছিলাম, ঐকমত্যে হয়েছিল। এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ। এ কয়েকটি মৌলিক কথা আমরা বলেছি। এ কয়েকটি সংস্কার হলেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে না। আমরা এই কয়েকটির কথা বলেছি, ধাপে ধাপে আগানোর জন্য। আমরা বলেছিলাম, এ সংস্কারগুলো করতে হবে সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে। সংশোধনীর মাধ্যমে বিএনপি যে সংস্কার নিয়ে আসুক সেটা টেকসই হবে না। আজকে তারা ক্ষমতায় আছে, চিরকাল কেউ ক্ষমতায় থাকে না। জিয়াউর রহমান ভুল করেছিলেন, বিএনপি যদি তাদের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চায়, সংস্কার পরিষদ ছাড়া করলে সেটা কার্যকর হবে না। কারণ এই সংশোধনী যে কেউ বাতিল করতে পারবে। আদালতে যেকোন সময় বাতিল করে দিতে পারে। ৭২ এর সংবিধান এর ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং তাদের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার পথ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। বিএনপি বুঝে হোক না বুঝে হোক এটা করছে। একটি টেকসই যাত্রার জন্য সংস্কার পরিষদ লাগবে।’
নোট অব ডিসেন্ট এর সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘পার্লামেন্টে অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা এতে অনেক নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। এতে সিদ্ধান্ত আটকায়নি। নোট অব ডিসেন্ট দেয়া হয়েছে যাতে এটা ঐতিহাসিক ডকুমেন্ট হিসেবে থাকে। নোট অব ডিসেন্ট এর আলোকে যদি সংস্কার হয়, তাহলে ঐকমত্য থাকে না। জুলাই সনদের প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ হোঁচট খায়, তাহলে মানুষকে বারবার রাস্তায় নামতে হয়। আমরা এটা চাই না। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এ সংস্কার করে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। যদি তা না হয়, তাহলে যারা সংস্কার এর পক্ষে ভোট দিয়েছে তারা বসে থাকবে না। প্রথম অধিবেশনকে সরকার ব্যর্থ করেছে। এটা অব্যাহত থাকলে লড়াই রাজপথে গড়াবে। আমরা আশা করি, তার আগেই সরকার নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।’
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সঞ্চালনায় সমাপনী অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা বক্তব্য দেন।