পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দিকনির্দেশনামূলক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, কোরবানির চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সব মসজিদের খতিব ও ইমামদের খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণ এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকদের কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:
- কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় সঠিকভাবে লবণ প্রয়োগ
- প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার
- বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ
- স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান
- পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা
- অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ
- সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাহবুবুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।”