বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেছেন, “কুরআনের আলোকে আমাদের জীবন, চরিত্র ও পরিবার গড়ে তুলতে হবে”। তিনি বলেন, কুরআন কেবলমাত্র পাঠ করার জন্য নয় বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের বিধান কায়েম করতে হবে। ব্যক্তি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র জীবনের সর্বস্তরের কুরআনের অনুশাসন অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ বিধানে জীবন পরিচালিত হলেই কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। মানুষের তৈরি মতবাদ সমাজতন্ত্র বা জাতীয়তাবাদে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি, হবেও না।
১৯ জুন (জুম’আ বার) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সবুজবাগ-মুগদা জোনের ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ৩ দফা দাওয়াতের মধ্যে কোথাও লেখা নেই জামায়াতে ইসলামীর দিকে আসতে হবে। বরং জামায়াতে ইসলামী দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য দাওয়াত দিয়ে থাকে। তিনি বলেন, অন্যদের স্লোগান হচ্ছে; আমাদের দিকে এগিয়ে আনো, দলীয় প্রধানের হাতকে শক্তিশালী করো! কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর দিকে এগিয়ে আসার কিংবা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের হাতকে শক্তিশালী করার কোনো স্লোগান কিংবা দাওয়াত জামায়াতে ইসলামী দেয় না, দেবেও না। জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শামিল হওয়ার দাওয়াত প্রদান করে আসছে। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামীর এই দাওয়াত অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, জাতগিত কোনো বিভাজন থাকবে না। রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি নাগরিক সমান এবং অভিন্ন। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ হলে মানুষের মৌলিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর পেছনে একমাত্র কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের চিন্তাচেতনা। ক্ষমতায় যখন যারাই বসেছে তারা নিজেদের মতবাদ জাতির ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে, জনগণকে শোষণ করেছে। কিন্তু রাষ্ট্র যদি কুরআনের বিধানে পরিচালিত হয় তবে ক্ষমতাসীন দল নিজস্ব মতবাদ জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। কুরআনের বিধানে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। ফলে জনগণ শোষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী আপোষহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। এজন্য জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে তিনি আহ্বান জানান।