১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোট চেয়েছিলাম বৈষম্যমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক নীতি-নৈতিকতাভিত্তিক বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, প্রকৃত ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণ সব মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আমরা কখনও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি অবিচার, নির্যাতন বা অসম্মানের পক্ষে নই।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দেশের নেতৃত্বে আসবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফলে জনগণের সামনে এখনও অনেক জাতীয় সমস্যা রয়ে গেছে। আজও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা প্রশ্নে জনগণের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের ফল নয়। এটি বহু মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তাই জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে কিছু মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। এই সংস্কার কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য নয়; বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার জন্য। আমরা চাই— ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচার জন্ম নিতে না পারে; রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হয়; বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।