ঢাকা, ২ নভেম্বর ২০২৫:
দেশের বিদ্যুৎ খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি চুক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় আদানি গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিতে “অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ, স্বচ্ছতার অভাব ও একতরফা সুবিধা” প্রদান করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিবেদনটি রবিবার (২ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা জানান, এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা পর্যন্ত এক ধরনের “কাঠামোগত দুর্নীতির চক্র” গড়ে উঠেছে।
কমিটির একজন সদস্য বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া ও পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টগুলো (PPA) এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লাভবান হয়, অথচ বাংলাদেশের জনগণকে এর দায় বইতে হয়।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ এবং চুক্তির অস্বচ্ছ ধারা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এর ফলে দেশে বিদ্যুতের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, অথচ উৎপাদন ও সরবরাহের দক্ষতা বাড়েনি।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, “সব চুক্তি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিটি ধাপেই যথাযথ অনুমোদন ছিল।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্নীতির দায় শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নয়; এটি পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতা। তাঁরা বিদ্যুৎ খাতে অবিলম্বে স্বাধীন নিরীক্ষা, চুক্তিগুলোর পুনঃমূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতের প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের নামে বছরের পর বছর ধরে “নির্ভরশীলতার রাজনীতি” তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রকল্প রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল থাকায় প্রযুক্তি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা উপেক্ষিত থেকেছে। আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি তার একটি বড় উদাহরণ, যেখানে বাংলাদেশকে উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য করা হয়েছে।
জনগণের করের টাকা দিয়ে গঠিত এই খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এখন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও জবাবদিহির উদ্যোগই হতে পারে একমাত্র সমাধান।