সমাজের ভিত্তি হলো পরিবার। একটি আদর্শ পরিবার শুধু ব্যক্তিগত জীবনে শান্তি আনে না, বরং সুস্থ সমাজ গঠনের পথও তৈরি করে। ইসলাম পরিবারকে মানব জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং কোরআন-হাদিসে আদর্শ পরিবার গঠনের করণীয় সম্পর্কে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর।” (সূরা আত-তাহরিম: ৬)। এ আয়াত পরিবারকে সঠিক পথে পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরে। ইসলাম আল্লাহভীতি, ন্যায়পরায়ণতা, পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে পরিবার গঠনের কথা বলে।
হাদিসে নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের সাথে উত্তম আচরণ করে।” (তিরমিজি)। অর্থাৎ পরিবারে নরম আচরণ, বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্যের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিবাহকে ইসলাম শুধু সামাজিক বা শারীরিক সম্পর্ক নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সম্পর্ক হিসেবে তুলে ধরেছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)। এর অর্থ দম্পতি একে অপরের সুরক্ষা, আড়াল, সৌন্দর্য ও মানসিক শক্তি।
অন্যদিকে সন্তান লালন-পালনকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বর্ণনা করে। সন্তানদের নৈতিকতা, ইমান ও আচার-আচরণ গঠনে বাবা-মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে রয়েছে, “প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের উপর জন্ম গ্রহণ করে, পরে তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা মাগুসি বানায়।” (বুখারি)। এ থেকে বোঝা যায়, শিশুদের চরিত্র গঠনে পরিবারের ভূমিকা সর্বাধিক।
ধর্মীয় শিক্ষায় জোর, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা এসবই আদর্শ পরিবার গঠনের স্তম্ভ হিসেবে কোরআন-হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
আধুনিক যুগে সামাজিক পরিবর্তন, ব্যস্ততা ও প্রযুক্তির ভারে পরিবারে যোগাযোগ ও সময় দেওয়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। ফলে কোরআন-হাদিসের নির্দেশিত এই মূল্যবোধগুলো পুনরায় গুরুত্ব পাওয়া জরুরি।
সুস্থ, শান্তিপূর্ণ এবং নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য আদর্শ পরিবার গঠন আজ সময়ের দাবি। কোরআন-হাদিসের আলোকে ভালোবাসা, সম্মান ও দায়িত্বশীলতার চর্চা পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে বলে অভিমত সংশ্লিষ্ট মহলের