প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:২৫
ডেইলি ক্রাইসিস বিডি ডেস্ক
প্রায় ১৩ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুট। আগামী জানুয়ারি থেকেই এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় এয়ারলাইন্স। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া এই আকাশপথ পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। বিমানের আসন্ন বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘদিন লাভজনক রুট হিসেবে পরিচিত ছিল ঢাকা–করাচি আকাশপথ। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশের মাধ্যমে ট্রানজিট নিতে হয়েছে—যা সময় ও ভাড়া উভয়ই বাড়িয়ে দিত। অথচ সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় ঢাকা থেকে করাচি যাতায়াত সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে দুদেশের বাণিজ্য, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক যোগাযোগে নতুন গতি আসবে।
সূত্র জানায়, ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটটি একসময় বাংলাদেশের ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রুটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, যাত্রী চাহিদা, বাণিজ্য বিকাশ, শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং শ্রমবাজারের সুবিধা বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক ও পাকিস্তান সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির মহাপরিচালক নাদির শাফি দারের মধ্যে বৈঠকেও রুট পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন বাড়লে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। তবে করাচির জিন্নাহ এয়ারপোর্ট অথরিটির আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হওয়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে কিছুটা সময় লাগছে। এতে জানুয়ারির আগে ফ্লাইট চালু হওয়া সম্ভব নয়।
এই রুটে বোয়িং ৭৩৭–৮০০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে। পাকিস্তানের বহু যাত্রী ঢাকা হয়ে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য গন্তব্যে যেতে পারবেন—যা তাদের জন্য সময় ও খরচ উভয় দিক থেকে সুবিধাজনক হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে ঢাকা–করাচি রুট পুনরায় চালু হওয়া আঞ্চলিক সংযোগকে আরও এগিয়ে নেবে। বিশেষত বাণিজ্য, পর্যটন ও শিক্ষাখাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বোশরা ইসলাম জানান, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা দ্রুত এগোচ্ছে এবং যে কোনো সময় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ককে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে; এর মধ্যে করাচি ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলও চালু হয়েছে।