চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল ও দায়ীদের দেশত্যাগ রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি
অনলাইন ডেস্ক: সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাসহ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা ঘটনার তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের পরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত ফেরদৌস আজিজ। তিনি বলেছেন, “রিপোর্ট প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসনিক বা আইনগত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে এই নীরবতা গ্রহণযোগ্য নয়।”
ফেরদৌস আজিজ মনে করেন, এমন সংবেদনশীল ঘটনার তদন্তের পরই দ্রুত ও দৃশ্যমান অ্যাকশন নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় জনমনে সন্দেহ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবি ফেরদৌস আজিজের
কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ বলেন,
“রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর নিরাপত্তা কাঠামোতে চুক্তিভিত্তিক বা সাময়িক নিয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সিনিয়র ও যোগ্য ক্যারিয়ার অফিসারদের হাতে দায়িত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, তদন্তে যাদের নাম এসেছে বা আসতে পারে তাদের পরিচয় বা পদ নয়, বরং আইনের সামনে দাঁড়ানোই এখন মূল বিষয়।
ইমিগ্রেশনে কঠোর নজরদারি ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান
কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ বলেন,
“তদন্ত চলাকালে কেউ দেশ ছাড়তে পারলে বিচারই বাধাগ্রস্ত হবে। তাই বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা জারি করতে হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কারও যেন দেশত্যাগ সম্ভব না হয়।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন—যদি দায়িত্বশীল সংস্থার ত্রুটির কারণে কেউ দেশ ছাড়ে, তবে সেই ত্রুটির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও ফেরদৌস আজিজের প্রশ্ন
তিনি বলেন,
“এত বড় ঘটনার তদন্ত চলতে থাকা অবস্থায় কেউ কীভাবে ফাঁক গলে দেশ ছাড়তে পারে? এটি গোয়েন্দা সংস্থার দুর্বলতা এবং দায়িত্বে অবহেলা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।”
রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিয়ে ফেরদৌস আজিজের কঠোর মন্তব্য
কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ প্রশ্ন তুলেছেন:
“তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরও নীরবতা কেন? দায়িত্বে অবহেলা কারা করছে? রাষ্ট্র কি কারও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঢাল হয়ে থাকবে?”
তিনি বলেন,
“জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। রক্তের বিচার বিলম্বিত হলে জাতির আস্থা ভাঙবে।”
সরকারি অবস্থান এখনো জানা যায়নি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ বলেছেন এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো জবাবদিহি ও ন্যায়ের নিশ্চয়তা দেয়া। জনগণ আর অপেক্ষা করতে চায় না।”