ঢাকা | বুধবার
সরকারি নির্দেশনার আলোকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে কোনো ধরনের জমায়েত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)। এর ফলে আসন্ন খুরুজের জোড়সহ সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।
কী বলছে তাবলিগ জামাত
হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন,
“আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান না করার অনুরোধ জানিয়েছে। আমাদের মুরুব্বিরা বরাবরই প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।”
তিনি জানান, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে না এসে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকেই আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্যান্ডেল খুলে ফেলা শুরু
তাবলিগ জামাতের এই সিদ্ধান্তের পর ইতোমধ্যে টঙ্গী মাঠে নির্মিত প্যান্ডেল খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদারক করছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল।
অতীত সহিংসতার প্রসঙ্গ
অতীতের সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন,
- ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির সময় হামলায় প্রায় ৫ হাজার সাথী আহত হন।
- ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে পুনরায় হামলায় ৪ জন সাথী শহীদ হন এবং শতাধিক আহত হন।
তার দাবি, প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব সহিংসতা ঘটিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ তাবলিগের মেহনতকে দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সরকারি অবস্থান
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনপূর্ব সময়ে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠে খুরুজের জোড়, বিশ্ব ইজতেমা কিংবা অন্য কোনো সমাবেশ আয়োজন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
নির্বাচন শেষে ইজতেমার সম্ভাবনা
হাবিবুল্লাহ রায়হান আরও বলেন,
“সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত রয়েছে।”