ঢাকা | বুধবার
বাংলাদেশে ২০২৫ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষ তেমন স্বস্তি অনুভব করতে পারেননি। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (বিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৩ শতাংশের ওপরে ওঠেছিল, ২০২৫ সালে তা গড়ে ৭–৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কাগজে-কলমে এই কমানো স্বস্তিদায়ক হলেও বাস্তবে গড় আয়ের সঙ্গে খাদ্যদামের বৃদ্ধির হার মিলছে না, ফলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়-চাপে স্বস্তি আসে না। বেসরকারি গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, একটি পরিবারের মোট ব্যয়ের ৫৫ শতাংশের বেশি খরচ হয় শুধু খাদ্যের ওপর, তাই সামান্য দাম বাড়লেও ভোক্তাদের ওপর বড় চাপ পড়ে।
চালের বাজারে বৈপর্য্য
২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে চালের দাম ২০১৭ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের গড় দাম বছরে ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে।
তবে বাংলাদেশে তা প্রতিফলিত হয়নি। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরুতে মোটা চালের দাম ছিল ৫০–৫৫ টাকা/কেজি, যা বছরের শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪–৬০ টাকা। সরু চালের দাম বেড়ে যায় ৭০–৮৫ টাকা/কেজি। বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেন, মিল পর্যায়ে সিন্ডিকেট ও বাজার তদারকির ঘাটতিই দাম কমার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা।
সয়াবিন ও পাম তেলের দাম
ভোক্তাদের আরেকটি বড় চাপ ছিল সয়াবিন ও পাম তেল। ২০২৫ সালে এই তেলের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম বাড়ানো হয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ বাড়তি খরচ বড় চাপ তৈরি করেছে।
পেঁয়াজ ও সবজির বাজার
পেঁয়াজের দাম বছরের প্রথম দিকে স্বাভাবিক থাকলেও বছরের শেষে লাফিয়ে বেড়ে যায় প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। সরকারের আমদানির অনুমতির পর ডিসেম্বরে দাম কমে ৬০–৭০ টাকার মধ্যে চলে আসে।
সবজির দাম সারা বছরই চড়া ছিল, ৮০–১০০ টাকা। কিছু বিশেষ সবজি ১২০–১৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। এর ফলে ডিম ও মুরগির দামে চাপ পড়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে শীত মৌসুমে সরবরাহ বেড়ে দাম কমেছে; সবজির দাম ৩০–৬০ টাকা, ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামও নিম্নমুখী।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মত
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সবজির দাম কমার ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, এটি মৌসুমি এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় যদি সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন না করা হয়।
ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন,
“নতুন বছরের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় নির্বাচন। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে। এজন্য বাজারে নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”