ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন আজ।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৩০০ আসনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা আজ মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বৈধ ও বাতিল প্রার্থীদের সংখ্যা ঘোষণা করবেন।
ইসি সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের জন্য ৭টি নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে আবেদন করতে হবে। আপিল গ্রহণের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতি সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের জন্য ১০টি বুথের মাধ্যমে আপিল গ্রহণ করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ টা থেকে বিকেল ৪:৩০ টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের আপিলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। যদি বাতিলের কারণ সঠিক না হয়, তবে আইন অনুযায়ী মনোনয়ন গ্রহণ করা হবে।
আপিলের জন্য ৭টি নির্দেশনা:
- আবেদন কমিশনকে স্মারকলিপি আকারে নির্ধারিত ফরমেটে দাখিল করতে হবে।
- মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ ও সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে।
- একটি মূল কপিসহ মোট ৭টি কপি জমা দিতে হবে।
- নির্ধারিত অঞ্চলের বুথে আবেদন দাখিল করতে হবে।
- আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।
- আপিলের রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।
- আপিলকারী বা তার মনোনীত ব্যক্তি রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আগারগাঁওয়ে স্থাপিত ১০টি বুথ:
- বুথ ১ – খুলনা অঞ্চল
- বুথ ২ – রাজশাহী অঞ্চল
- বুথ ৩ – রংপুর অঞ্চল
- বুথ ৪ – চট্টগ্রাম অঞ্চল
- বুথ ৫ – কুমিল্লা অঞ্চল
- বুথ ৬ – সিলেট অঞ্চল
- বুথ ৭ – ঢাকা অঞ্চল
- বুথ ৮ – ময়মনসিংহ অঞ্চল
- বুথ ৯ – বরিশাল অঞ্চল
- বুথ ১০ – ফরিদপুর অঞ্চল
বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি, যার মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। অংশ না নেওয়া দলগুলো হলো:
- বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল)
- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
- বিকল্পধারা বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন
- তৃণমূল বিএনপি
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)