হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তখন বেশ গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে মুখোমুখি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং বর্তমান লেবানন সংকট নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর কথা বলেছেন তিনি। ট্রাম্প পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, চলমান সংঘাতের এই কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে একা ফেলে রাখবে না; বরং দেশটির অর্থনীতি এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
বৈঠক চলাকালীন আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ সামনে আসার পর ট্রাম্প বেশ বড় ও নমনীয় একটি প্রস্তাব রাখেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, চলমান লেবানন সংকট মোকাবিলায় লেবাননের সরকার বা প্রেসিডেন্ট যদি নিজেরা সেটা প্রয়োজন মনে করেন, তবে সরাসরি সংশ্লিষ্টপক্ষের সঙ্গে কথা বলতেও তিনি বিন্দুমাত্র পিছপা হবেন না। দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ, হামলা আর রাজনৈতিক গোলযোগের কারণে লেবাননের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের একটি স্থায়ী সমাধানে ওয়াশিংটন এখন সরাসরি কাজ করতে চায়।
শুধু লেবাননই নয়, ট্রাম্পের চোখে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের চিত্রটাই যেন বদলে যাওয়ার পথে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, খুব শীঘ্রই এই অঞ্চলের আরও বেশ কিছু নতুন দেশ ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির আওতায় চলে আসবে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের বরফ গলাতে এবং এই বিশেষ লেবানন সংকট কতটুকু দূর করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।