ভোটের চেয়ে জনগণের বিবেক ও নারীদের কণ্ঠস্বরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানালেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী
ঢাকা | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
ক্ষমতা বা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বরং নৈতিকতা, সংস্কার ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলাই নিজের মূল লক্ষ্য—এমন মন্তব্য করেছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি বলেন, নিয়মনীতি ও বিবেকের সঙ্গে কোনো আপোস তিনি করেন না এবং মিথ্যার রাজনীতিতেও বিশ্বাসী নন।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেকে মনে করছেন তিনি নিজের প্রচারণায় ব্যস্ত, কিন্তু বাস্তবে তিনি কোনো কাগজ বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার ছাড়াই ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। প্রতিটি ভোটারের কাছে তিনি হাতপাখা, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা ও কলি প্রতীকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতীক ও জোটের বিষয় তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সংস্কার, জুলাই আন্দোলন, হাদি প্রসঙ্গসহ সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতি নিয়েও আলোচনা করেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি কখনো বলিনি শুধু আমাকে ভোট দিতে হবে। বরং বলেছি—যে প্রার্থীই আসুক, যদি তিনি যোগ্য, সৎ এবং মানুষের অধিকার নষ্টকারী না হন, তাকেই ভোট দেওয়া উচিত। এমনকি আপনার এলাকার বিএনপি প্রার্থী যদি যোগ্য হন, সেটিও বিবেচনায় রাখার কথা বলেছি।”
এই অবস্থান নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত বা উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমনকি রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও অনেকেই বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না। তবে তার মতে, জাতীয় রাজনীতি কখনোই ব্যক্তি স্বার্থকেন্দ্রিক হতে পারে না।
গত কয়েক দিনে তিনি হাজারের বেশি নারীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই উদ্যোগ কোনো ব্যক্তিস্বার্থে নয় বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, নারীদের অনেক কথা থাকে—যা শোনার মতো মানুষ সমাজে খুব কম। একজন পুরুষ প্রার্থী অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের অনুভূতি ও বাস্তবতা পুরোপুরি বুঝতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেখলে নারীরা নিজেদের কষ্ট, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সন্তানদের স্বপ্ন—সব কথা বলতে চান। তারা জানতে চান, শিখতে চান। এই জায়গাটিই আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।”
মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তার উপলব্ধি হয়েছে, সৎ, দক্ষ ও সাধারণ বাঙালি নারীদের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন। যারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবেন, নির্বাচনে জয়ী হলে মাসে অন্তত একবার জনগণের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সরাসরি তাদের কথা শুনে কাজ করবেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, তার স্বপ্ন শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়া নয়; বরং মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা, সঠিক মানুষ চেনার সক্ষমতা তৈরি করা এবং নৈতিক রাজনীতির চর্চা গড়ে তোলা।