ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় সম্মতির পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা
প্যারিস, ফ্রান্স — ৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় মস্কো ও কিয়েভ সম্মত হওয়ার পর ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
▪️ প্যারিসে ‘কোলিশন অব দ্য উইলিং’ সম্মেলন
মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আয়োজিত ‘কোলিশন অব দ্য উইলিং’ শীর্ষ সম্মেলনের পর যৌথ ঘোষণাপত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বাক্ষর করেন।
সম্মেলনে ২৭টি রাষ্ট্র বা সরকারের প্রধান ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।
▪️ ইউক্রেনে সামরিক উপস্থিতির পরিকল্পনা
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, যুদ্ধবিরতির পর ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউক্রেনজুড়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে। তবে রাশিয়া পুনরায় আক্রমণ শুরু করলেও পরিকল্পিত স্থলবাহিনী সরাসরি রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে না।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি বহুজাতিক ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেবে ইউরোপীয় দেশগুলো।
▪️ ইউরোপে মতভেদ স্পষ্ট
সম্মেলনের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্পষ্ট করে জানান, তাদের দেশ ইউক্রেনে কোনো সামরিক মিশনে সেনা পাঠাবে না।
অন্যদিকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মের্জ বলেন, জার্মানি একটি যৌথ ইউরোপীয় বাহিনীতে অবদান রাখতে পারে—যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
▪️ রাশিয়ার অবস্থান অনিশ্চিত
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবে রাশিয়া সম্মত নাও হতে পারে। ফলে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।