আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু, সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ ৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত
ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
গুম ও শতাধিক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের আদালত বুধবার দুপুরে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
বিচার শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি, যা সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আদালত বিচার শুরুর আদেশ দেন। অন্যান্য সদস্যরা হলেন শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে ৮ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে তার আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য দেন। তারা দাবি করেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে তারা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।
এরপর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণের সক্ষমতা (প্রাইমা ফেসি) তুলে ধরে আদালতের কাছে অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে আদালত ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
গত ৪ ডিসেম্বর জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রথম অভিযোগ: ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক সজলসহ তিনজনকে নিয়ে জিয়াউল ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হয়। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে বন্দিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগ: বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল হত্যাকাণ্ডের ‘হটস্পট’। গভীর রাতে বন্দিদের ট্রলার বা নৌকায় নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। এই প্রক্রিয়াটি ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোড নামে পরিচালিত হতো। এভাবে কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগ: বনদস্যু দমন বলে পরিচিত অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা চালানো হতো। পূর্বে আটক বা গুম থাকা ব্যক্তিদের বনদস্যু সাজিয়ে গভীর রাতে হত্যার দেখানো হতো। র্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অভিযানে অংশ নিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। এই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’-তে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন।