মৃতকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজি ও অপরাধের অভিযোগ, নিহতের লাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে খেলনা পিস্তল
নোয়াখালী, বাংলাদেশ — ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর কিছু ব্যক্তি নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে বিএনপির ত্যাগী কর্মী দাবি করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দিলে মিজান দূরে চলে যান। পরে কিছু ব্যক্তি তাকে আটক করে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে, যা ঘটনার স্থানেই মৃত্যুর কারণ হয়। পরে লাশ সড়কে ফেলে রাখা হয়। নিহত মিজানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা ছিল।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ জানান, মিজানের সঙ্গে কথাকাটাকাটির পর তার লাশ রাস্তার পাশে ফেলে পাওয়া যায়।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, মিজানুর রহমান কয়েক মাস ধরে এলাকায় উশৃংখলতা ও অপরাধ করে আসছিল। রাতের ঘটনার পর সাধারণ জনগণ তাকে গণপিটুনি দেয়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা লাঠি, লোহার পাইপ ও নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।