ঢাকা — ২১ জানুয়ারি ২০২৬
মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় সেবায় কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে মসজিদের জনবল কাঠামো শক্তিশালী করা ও দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় পে স্কেল অনুসারে বেতন পাবেন ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা। সরাসরি সরকার পরিচালিত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ নবনির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা সরকারি তহবিল অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই বেতন কাঠামোর আওতায় থাকবেন।
তবে বেসরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ের মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বেতন প্রদানের মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির ওপরই বহাল থাকবে। সরকার জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও স্থানীয় মসজিদগুলোতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি গেজেটে মসজিদের বিভিন্ন পদকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত গ্রেডগুলো হলো—
- সিনিয়র পেশ ইমাম: পঞ্চম গ্রেড
- পেশ ইমাম: ষষ্ঠ গ্রেড
- ইমাম: নবম গ্রেড
- মুয়াজ্জিন: প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম গ্রেড, সাধারণ মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড
- খাদেম: প্রধান খাদেম ১৫তম গ্রেড, সাধারণ খাদেম ১৬তম গ্রেড
- অন্যান্য কর্মী: নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ২০তম গ্রেড
তবে মসজিদের খতিবদের বেতন বা সম্মানী জাতীয় পে স্কেলের আওতায় নির্ধারিত হয়নি। তাদের পারিশ্রমিক সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় সেবায় কর্মরতদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হবে।