বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি এবং আধুনিক UAV (Unmanned Aerial Vehicle) কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে এটি কোন সাধারণ নজরদারি ড্রোন তৈরির প্রকল্প নয়; বরং কৌশলগত স্তরে ব্যবহারের জন্য উন্নত মানের UAV নির্মাণই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এয়ার চিফ মার্শাল জানান, বগুড়াকে ভবিষ্যতে বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বগুড়ায় বিমানঘাঁটির অবকাঠামো উন্নয়ন এবং একই সঙ্গে UAV উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এখানে যে UAV তৈরি হবে, তা মূলত সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হবে এবং এগুলো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর হবে।
তার বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়, বিমান বাহিনী MALE (Medium Altitude Long Endurance) শ্রেণির UAV-এর দিকে লক্ষ্য রাখছে। এই শ্রেণির UAV সাধারণত মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম, যা গোয়েন্দা নজরদারি, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, কৌশলগত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে নির্ভুল আঘাত হানার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে বিশ্বের অনেক আধুনিক বিমান বাহিনী এই শ্রেণির UAV ব্যবহার করছে, এবং বাংলাদেশ সেই সক্ষমতার দিকেই এগোচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই UAV কারখানা নির্মাণ প্রকল্পটি সরকার-থেকে-সরকার (G2G) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এতে বিদেশি প্রযুক্তি সহযোগিতা ও প্রযুক্তি স্থানান্তর (Technology Transfer) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য কয়েকশ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদনের বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে ড্রোন বা UAV-এর জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলা।
একই সঙ্গে বগুড়া বিমানঘাঁটির উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিমান বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এটি দ্রুত মোতায়েন, প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আকাশপথে কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, বগুড়ায় বিমানঘাঁটি ও কৌশলগত UAV কারখানা নির্মাণের এই ঘোষণা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় একটি বড় ও যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তোলার দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।