ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারের সুস্পষ্ট আশ্বাস এবং চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
বৃহস্পতিবার সংগঠনটি জানায়, জাতীয় স্বার্থ, আসন্ন নির্বাচন এবং শিল্পখাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিটিএমএ সূত্র জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দীনের সভাপতিত্বে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের চলমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্পিনিং সেক্টরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, স্পিনিং শিল্প দেশের রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত কৌশলগত একটি খাত। তিনি সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য সমাধানের আশ্বাস দেন।
সভা শেষে তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে সব অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রহিমা বেগম এবং এনবিআরের শুল্ক নীতি সংশ্লিষ্ট সদস্য মুবিনুল কবীরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও সভায় অংশ নেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান এবং বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। শিল্প সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে তাঁদের প্রস্তাবনা ও দাবির যৌক্তিকতা উপস্থাপন করেন।
সরকারের আশ্বাস এবং ফলপ্রসূ সংলাপের ধারাবাহিকতায় বিটিএমএ তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, স্পিনিং সেক্টরের সংকট দ্রুত সমাধান হলে রপ্তানি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি সময়মতো ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।