ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনে জোট গঠন করলেও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লড়াই চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে এনসিপির প্রধান লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে এনসিপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দলের মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এনসিপির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণঅভ্যুত্থানের মতো এক সংকটকালীন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ২০২৪-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। সেই দলই আজ একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।”
তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রতিষ্ঠার সময়ই কিছু মৌলিক প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়েছিল, যা আজও দলের রাজনীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। “গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আমাদের নেতৃত্ব, চিন্তা ও আদর্শের বিকাশ ঘটেছে,”—বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা আগস্টে শহীদ মিনারে স্পষ্টভাবে বলেছিলাম—ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার কথা। গত ১৬ বছর এবং স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে গড়ে ওঠা ব্যবস্থার কারণেই বাংলাদেশ প্রকৃত গণতন্ত্রে পৌঁছাতে পারেনি।”
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ‘২৪-এর প্রজন্ম’ একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রজন্মকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, সেটাই এনসিপির মূল ভাবনা।
“তারুণ্য আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। পাশাপাশি মর্যাদা বা ডিগনিটি—কারণ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ বছরে মানুষ ন্যূনতম মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিল,”—বলেন এনসিপির আহ্বায়ক।