ঠাকুরগাঁও, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ, মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর ও আইটি হাব প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, “আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করতে হবে।”
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার হবে। “বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার সরকার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই,”—বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান আরও বলেন, পঞ্চগড়ে চিনিকল পুনরায় চালু করা হবে এবং সেখানে চা ও রেশনভিত্তিক শিল্প স্থাপন করা হবে। “জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরে পাওয়ার সময় এসেছে,”—উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “এই অঞ্চল কৃষিনির্ভর। আমরা কৃষকদের পাশে দাঁড়াবো এবং কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলবো, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এখানে বহু বেকার যুবক রয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা হবে।”
তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশ পুনর্গঠন করতে চায়। “এই কাজ বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন,”—বলেন তিনি।
নির্বাচনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ নেই। জনগণ জানতে চায়—কে মানুষের জন্য কী করবে। “সেই কারণেই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরছি,”—যোগ করেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তারেক রহমান বলেন, “খালেদা জিয়া বলতেন—বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশই তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করা হয়নি, ২০২৪ সালেও তাই। এই দেশে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে, ভবিষ্যতেও তাই হবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না।”