চট্টগ্রাম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির কারণে রোববার সকাল থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর।
দ্বিতীয় দফায় সর্বাত্মক অবরোধের ফলে রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো এবং বহির্নোঙরে শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দেননি। একই সঙ্গে কোনো পরিবহনও বন্দরে প্রবেশ করেনি। এতে পুরো বন্দর এলাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বহির্নোঙরে রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে শতাধিক জাহাজ অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন।
‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে ছয় দিন কর্মবিরতি পালনের পর দুই দিনের বিরতি দিয়ে রোববার সকাল ৮টা থেকে ফের অবরোধ শুরু হয়। এতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন গেট, জেটি ও টার্মিনালে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হয়, যার ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
এদিকে আন্দোলনে জড়িত ১৫ শ্রমিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের আবেদন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।