দোহা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কাতারের দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালন করেছে। মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ হযরত আলী খান এর সভাপতিত্বে দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কাতার প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল ও কলেজ এর প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ এর উপস্থিতিতে দূতাবাস কর্তৃক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়েছে।
সকালে রাষ্ট্রদূত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরনের মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। ভাষা শহিদ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দূতাবাস প্রাঙ্গনে প্রথমবারের মত একটি অস্থায়ী শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়। উক্ত শহিদ বেদিতে রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারি, তাঁদের পরিারবর্গ এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। অতঃপর পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত এবং মহান ভাষা আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর মহান ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী সকল শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত মহান ভাষা আন্দোলনের উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে অপরাহ্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ হযরত আলী খান মহান ভাষা আন্দোলনে শহিদসহ মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থানে সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অতঃপর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্যের উপর আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচিত হয়, যার ফলে ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এছাড়াও মান্যবর রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে সদ্য নির্বাচিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কর্তৃক একটি বৈষম্যহীন ও দুর্নীতি মুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ তৈরী হয়েছে তা বাস্তবায়নে সকলকে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান। পরিশেষে আমন্ত্রিত সকল অতিথিদেরকে ইফতার ও নৈশভোজ পরিবেশনার মাধ্যমে আপ্যায়িত করা হয়।