ঢাকা | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় নতুন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা। যদিও হারটি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে নির্ধারিত ১৯ শতাংশের নিচে, তবু নীতিগত অস্থিরতায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ কাটছে না।
আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকরের কথা থাকলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা আসে। তবে নতুন হারটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প ১৫০ দিনের জন্য বিশ্বের সব দেশের ওপর ১৫ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দেন। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিতা ২০২৫ সালের এপ্রিলের আগের অবস্থার মতোই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, সমান শুল্ককাঠামো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে তুলনামূলক সুবিধা দিতে পারে। ১৫ শতাংশ হারটি আগের ১৯ শতাংশের চেয়ে কম হওয়ায় মার্কিন আমদানিকারকেরা তুলনামূলক কম খরচে পণ্য আমদানি করতে পারবেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে তৈরি পোশাকের দাম কিছুটা কমতে পারে, যা ভোক্তা চাহিদা বাড়িয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
তবে নীতিগত দোলাচল বড় উদ্বেগের কারণ। ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ কী— এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ট্রাম্পের পূর্ববর্তী রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিটিও বাতিল হয়ে যেতে পারে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ সহজে এ ধরনের চুক্তি থেকে সরে আসতে পারবে না; আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ফোরামে এর প্রভাব পড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর থাকলে ক্রেতারা মূল্যছাড় দাবি করেন বা অর্ডার স্থগিত রাখেন, যা উৎপাদন ও মুনাফায় চাপ তৈরি করে। ১৯ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামা স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক হলেও ১৫০ দিনের পর পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা অনিশ্চিত।
এ বিষয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করায় নতুন করে দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, চুক্তির কিছু শর্তে বাংলাদেশের স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত হয়নি। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, বাংলাদেশ সরে এলে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করায় এ ঝুঁকি আর নেই। তার মতে, পুরো চুক্তি বাতিল না করে ক্ষতিকর শর্তগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনায় যাওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মত, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশও একই শুল্ক কাঠামোর আওতায় এলে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। তাই কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও নীতিগত দৃঢ়তাই হবে আগামীর মূল চ্যালেঞ্জ।