যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যবসা পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজার সংযোগে সহায়তা
ঢাকা | ০৫ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং Save the Children বাংলাদেশ। নতুন ব্যবসা সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, বাজার সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং সেভ দ্য চিলড্রেন, বাংলাদেশের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান ও মো. নাজিম হাসান সাত্তার, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মো. আব্দুস সালাম সরদার। এছাড়া সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের অ্যাডভাইজর (পলিসি অ্যাডভোকেসি) জাফর উল্লাহ খান, সিনিয়র লিড (ইয়ুথ, চাইল্ড পোভার্টি অ্যান্ড ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স) নিশাত আফরোজ মির্জা এবং হেড অব পার্টনারশিপ ইকবাল হোসাইন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকার বাইরে সরাসরি কার্যালয় না থাকায় এসএমই ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, “সেভ দ্য চিলড্রেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণদের শুধু চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বের করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।”
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের অন্তর্ভুক্ত।
শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশই এই সিএমএসএমই খাতে সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৩ কোটির বেশি মানুষ কর্মরত।
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে এসএমই খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী হয়েছেন প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।