এলএনজি, এলপিজি ও সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বেশ কয়েকটি জাহাজ
চট্টগ্রাম | ০৮ মার্চ ২০২৬
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল নিয়ে Strait of Hormuz অতিক্রম করে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছেছে অন্তত ১৫টি জাহাজ। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে Chittagong Port Authority-এর অধীন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকি তিনটি চলতি সপ্তাহে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার আগমুহূর্তে এসব জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে এলএনজি, দুটিতে এলপিজি এবং নয়টিতে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল রয়েছে।
জ্বালানিসংকটের আশঙ্কার মধ্যে এসব জাহাজের আগমন সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ওমানের সোহার বন্দর থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে এবং এতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি।
এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এসব জাহাজে Meghna Group of Industriesসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে।
অন্যদিকে কাতার থেকে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসানিয়া’ নামে দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে।
সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামে আরও দুটি জাহাজ আগামী সোমবার ও বুধবারের মধ্যে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাতে পারে। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সংঘাত শুরুর দুই থেকে সাত দিন আগে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন এই প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ সাতটি দেশ থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে বাংলাদেশে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি)-এর এক জেনারেল ম্যানেজার বলেন, মোট ১৫টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে এলএনজি ও এলপিজিবাহী চারটি জাহাজ রয়েছে। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যেও এটি কিছুটা স্বস্তির খবর।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপারে এখনো এলএনজিবাহী দুটি জাহাজ এবং একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব রিফায়েত হামিম বলেন, বন্দরের রেকর্ডে সাধারণত জাহাজের সর্বশেষ ছেড়ে আসা বন্দরের তথ্য থাকে। তাই কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে এসেছে কি না তা নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।
তিনি জানান, এলএনজি, এলপিজি ও সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল বহনকারী ১০ থেকে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে এবং আরও দুই থেকে তিনটি জাহাজ আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।