ঈদ সামনে রেখে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে; কুমিল্লা অংশে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির অভিযোগ
কুমিল্লা | ০৮ মার্চ ২০২৬
আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এ ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকায় এ ধরনের অপরাধের ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের দাউদকান্দি, চান্দিনা, আদর্শ সদর, বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ এলাকায় সম্প্রতি অপহরণ ও ছিনতাইয়ের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর সংঘবদ্ধ চক্র ছোট ছোট মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার ব্যবহার করে যাত্রীদের টার্গেট করছে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম জানান, কাঁচপুর থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় এক হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগ ক্যামেরাই বর্তমানে অকার্যকর রয়েছে।
অপহরণের শিকার হয়ে পরে উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যাত্রী জানিয়েছেন, অপহরণের পর তাদের হুমকি দেওয়া হয়—ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে হত্যা করা হবে। এ ধরনের ভয়ভীতির কারণে অনেক ভুক্তভোগীই মামলা করতে চান না।
মহাসড়কের কয়েকজন চালক বলেন, সন্ধ্যার পর সংঘবদ্ধ চক্র প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস নিয়ে যাত্রী পরিবহনের ছদ্মবেশে চলাচল করে। সন্দেহভাজন যাত্রীদের গাড়িতে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। পরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
গত বুধবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল ঢাকায় যাওয়ার জন্য পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকারের চালক তাকে ডাকলে তিনি গাড়ির কাছে গেলে কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক তাকে গাড়িতে তুলে নেয় বলে অভিযোগ করেন।
পরে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা-র ওসি সিরাজুল মোস্তফা জানান, শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল বাদী হয়ে অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান, অপহরণকারীরা তার কাছ থেকে মোট ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেয় এবং পরে দাউদকান্দি এলাকার একটি অজ্ঞাত স্থানে তাকে ফেলে রেখে যায়।
একই ধরনের আরেকটি ঘটনার শিকার হন প্রকৌশলী মাসুম রানা। তিনি আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেটকারে ওঠেন। পরে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশ ও ব্যাংক হিসাব থেকেও টাকা স্থানান্তর করে নেয়। সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে মিয়াবাজার এলাকায় গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
মাইক্রোবাস চালক আলাউদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর কয়েকটি চক্র প্রাইভেটকার নিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে নামে। এখন পর্যন্ত এসব চক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি আমিরাবাদ হাইওয়ে থানা-র ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, দাউদকান্দি এলাকায় দিনে দুটি এবং রাতে চারটি টহল টিম কাজ করছে। সন্দেহভাজন গাড়িগুলো নিয়মিত তল্লাশি করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি শাহিনুর আলম জানান, কুমিল্লা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মহাসড়কের নিরাপত্তায় প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত আরও ৩০০ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
তবে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, ঈদযাত্রার আগে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য রাতের বেলা মোবাইল টহল বাড়ানো এবং সন্দেহভাজন যানবাহনের ওপর কড়াকড়ি তল্লাশির দাবি জানিয়েছেন তারা।