চট্টগ্রামের এই নীরব সৈকত ধীরে ধীরে নিজেকে উন্মোচন করে; শহরের ব্যস্ততা ভুলিয়ে দেয় প্রকৃতির নীরবতা
চট্টগ্রাম | ০৮ মার্চ ২০২৬
ঢাকার ব্যস্ততা, শহরের কোলাহল, ব্যক্তিগত ক্লান্তি—সব মিলিয়ে বুকের ভেতর অদৃশ্য ভার চাপা দেয়। নিজেকে খুঁজে পাওয়ার তাগিদে যাত্রা শুরু ফাতিমা তামান্নার, গন্তব্য গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত। এখানে সবুজ ঘাস, সরু খাল আর শান্ত সমুদ্র একসাথে মিলিয়ে প্রাকৃতিক এক অবিশ্বাস্য দৃশ্যের জন্ম দেয়।
ভোররাতে ঢাকা ছাড়ার পর সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে বেড়িবাঁধে পৌঁছানো মাত্র শহরের শব্দ মিলিয়ে যায়। বাঁধে নেমে প্রথম যা চোখে পড়ে তা সমুদ্র নয়, বরং বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাস। আঁকাবাঁকা খালগুলো ঘাসের মধ্যে সরু নদীর মতো ছড়িয়ে আছে। জোয়ারে খালগুলো নীল জলে ভরে যায়, আর সমুদ্র ধীরে ধীরে তার উপস্থিতি জানান দেয়।
গুলিয়াখালী একসময় ছিল জেলেদের নিরিবিলি মাছ ধরার স্থান। তবে ২০১৪ সালে স্থানীয় ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর পর্যটক আগমন বাড়তে শুরু করে। রিসোর্ট বা হোটেলের কোলাহল না থাকায় এখনো এখানে প্রকৃতির সরলতা অটুট রয়েছে।
উপকূলে দাঁড়িয়ে খালের জলে প্রতিফলন, হালকা বাতাসের ছোঁয়া, পাখির ডাক—সব মিলিয়ে এটি ধীরে ধীরে মনের ভার হালকা করে। বিকেলে সূর্যাস্তের আলো পশ্চিমে হেলে পড়লে আকাশের রঙ স্তরে স্তরে বদলে যায়—হলুদ থেকে কমলা, লাল এবং শেষে বেগুনি। সেই রঙ খালের জলে দ্বিগুণ প্রতিফলিত হয়।
যাতায়াত ও খরচ:
- ঢাকা থেকে বাসে সহজে যাওয়া যায়; নন-এসি ও এসি উভয়ই উপলব্ধ।
- ট্রেনে চট্টগ্রাম বা ফেনী হয়ে আসা সম্ভব।
- সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সিএনজি দিয়ে বেড়িবাঁধে ১৫–২০ মিনিট।
- জনপ্রতি ২–৩ হাজার টাকায় ডে-ট্রিপ সম্ভব; হোটেলে থেকে আরও সাশ্রয়ী।
পর্যটক সচেতনতা:
- সৈকতে আবর্জনা ফেলা নিষেধ।
- ঘাস ও কেওড়া বন রক্ষা করা আবশ্যক।
- নৌকা ভাড়া দরদাম করে নেওয়া ভালো (প্রায় ১,৫০০–২,০০০ টাকা)।
গুলিয়াখালী কেবল সৈকত নয়; এটি এক ধরনের আত্মদর্শনের জায়গা, যেখানে প্রকৃতির সরলতা শহরের জটিলতা ভুলিয়ে দেয়। এখানে ধীরে ধীরে সময় কাটালে বোঝা যায়, জীবনও সমুদ্রের মতো—কখনো উঁচু ঢেউ, কখনো শান্ত স্রোত।