ঢাকা | ১৪ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নদীপথে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন অনেক লঞ্চ নতুন রঙ ও সামান্য মেরামতের মাধ্যমে চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে এসব লঞ্চ দ্রুত সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ চলছে।
ডকইয়ার্ডে ব্যস্ত সময়
ঈদ ঘনিয়ে আসায় রাজধানীর কাছে কেরানীগঞ্জ এলাকার ডকইয়ার্ডগুলোতে এখন চলছে পুরোনো লঞ্চ মেরামত ও রঙ করার কাজ। সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িগঙ্গা নদী-এর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা চর কালীগঞ্জ থেকে কোন্ডা ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ডকইয়ার্ডে বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী ও কার্গো লঞ্চের মেরামত চলছে।
ডকইয়ার্ডে ঢুকতেই টুংটাং শব্দে ভরে উঠছে পরিবেশ। কোথাও শ্রমিকরা ওয়েল্ডিং করছেন, কোথাও আবার লঞ্চে নতুন রঙ করা হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রমিকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ে।
পুরোনো লঞ্চে নতুন সাজ
কেরানীগঞ্জের তেলঘাট থেকে মীরেরবাদ পর্যন্ত অন্তত সাতটি ডকইয়ার্ডে পুরোনো লঞ্চে রঙ ও মেরামতের কাজ চলছে। অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন লঞ্চকে নতুন রঙ করে বাহ্যিকভাবে নতুনের মতো দেখানো হচ্ছে।
কোথাও ভাঙা কাঠামো লোহার পাত দিয়ে জোড়া দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার মরিচা ধরা অংশ ঘষে পরিষ্কার করা হচ্ছে। কিছু লঞ্চে নতুন ডিজাইনের কাজও চলছে।
শ্রমিকদের বক্তব্য
ডকইয়ার্ডের শ্রমিক রবিউল বলেন, ঈদের আগে হঠাৎ করেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। বছরের অন্য সময় যেসব লঞ্চ খুব একটা মেরামত করা হয় না, ঈদের আগে সেগুলো দ্রুত রঙ ও সামান্য সংস্কার করে যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শ্রমিক জানান, ঈদের আগে ফিটনেস লাইসেন্স নেওয়ার জন্য অনেক ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চ নামমাত্র সংস্কার করা হয়।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয়দের মতে, কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ, হাসনাবাদ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৫০টি লঞ্চ মেরামত ও রঙ করতে দেখা গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে ফিটনেসবিহীন লঞ্চের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি জানান, অনেক বড় ত্রুটিও কখনো কখনো রঙের আড়ালে ঢেকে দেওয়া হয়।
যাত্রীদের উদ্বেগ
ভোলাগামী এক যাত্রী জাকির হোসেন বলেন, ঈদযাত্রায় প্রায় প্রতি বছরই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যেতে হয়। শুধু বাহ্যিক রঙ নয়, লঞ্চের ভেতরের যান্ত্রিক অবস্থাও ঠিকভাবে পরীক্ষা করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ডকইয়ার্ড মালিকদের অভিযোগ, অনেক অবৈধ ইয়ার্ডে এসব পুরোনো লঞ্চ মেরামত করা হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA)।
অন্যদিকে ঢাকার নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার ও যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রী আকর্ষণের জন্য লঞ্চে নতুন রঙ ও মেরামত করা হয়। তবে কোনো ফিটনেসবিহীন জাহাজ বা লঞ্চ চলাচলের অনুমতি নেই।
তিনি জানান, লঞ্চের ফিটনেস সনদ দেয় ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং এবং এরপর BIWTA-এর নৌনিরাপত্তা শাখা চলাচলের সময়সূচি নির্ধারণ করে।