ঢাকা | ১৪ মার্চ ২০২৬
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ে অনভিজ্ঞতার অভিযোগের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনি প্রচার, পোলিং এজেন্ট ব্যবস্থাপনা এবং কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঘিরে দলটির প্রস্তুতি ও দক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারে বিতর্ক
নির্বাচনি প্রচারের সময় নারীদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেকের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না এবং নীতিনির্ধারকদের অপ্রস্তুত অবস্থান প্রকাশ পেয়েছিল।
তবে দলটির নেতারা দাবি করেন, নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মাতৃত্বকালীন সময়ে কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়টিই ওই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা
ভোটের দিন অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের অনুপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবের অভিযোগ ওঠে। কোথাও কোথাও ভোট গণনার সময়ও জামায়াতের এজেন্টদের দেখা যায়নি বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাংগঠনিক দুর্বলতা না থাকলে নির্বাচনের ফল আরও ভালো হতে পারত।
কূটনৈতিক উপদেষ্টা নিয়ে বিতর্ক
সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর পক্ষ থেকে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগের সুপারিশ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ওই চিঠিতে কিছু অতিরিক্ত বিষয় যুক্ত করা হয়েছিল যা আমিরের নির্দেশনার বাইরে ছিল। পরে মাহমুদুল হাসানকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এরপর নতুন করে মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)-কে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নতুন নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা
এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী-কে ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স কনসালট্যান্ট’ হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সম্প্রতি তিনি ঢাকায় সফররত মার্কিন কর্মকর্তা পল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠকেও অংশ নেন।
নেতাদের বিতর্কিত বক্তব্য
দলটির কয়েকজন নেতার বেফাঁস বক্তব্যও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের নেতা শাজাহান চৌধুরী এবং ধর্মীয় বক্তা মুফতি আমির হামজা-এর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়া বরগুনা জেলা জামায়াতের নেতা শামীম আহসান-কে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সংসদীয় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
বর্তমানে জাতীয় সংসদে ৬৮ জন সদস্য নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে জামায়াতে ইসলামী। তবে সংসদে ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেতাদের ভিন্নমত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলের ব্যাখ্যা
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দীর্ঘদিন দলটির ওপর নানা রাজনৈতিক চাপ ছিল—অফিস বন্ধ, নেতাদের গ্রেপ্তার এবং নিবন্ধন বাতিলের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
তিনি বলেন, দলটি সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় এবং কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত সংশোধনের চেষ্টা করে।