ঢাকা | ১৪ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এক ও দুই লিটারের বোতল অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে সবজি ও পেঁয়াজের দাম কমলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে আমদানি করা মসলার দামও আবার বেড়েছে।
সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম
রাজধানীর নয়াবাজার, হাতিরপুল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো।
বিক্রেতাদের দাবি, দাম বাড়ানো না হলেও কমিশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, ঈদকে সামনে রেখে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোম্পানিগুলো কৌশলে সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।
কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের বাবলু বলেন, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অনেক কম। ৫০ কার্টন চাইলেও পাঁচ কার্টনও দেওয়া হচ্ছে না। ফলে দোকানিরা বোতলের গায়ে লেখা দামে তেল কিনে একই দামে বিক্রি করছেন, এতে কোনো লাভ থাকছে না।
ক্রেতাদের ভোগান্তি
বেসরকারি চাকরিজীবী আলিম উদ্দিন জানান, বাজারে এক বা দুই লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি দোকান ঘুরেও ছোট বোতল না পেয়ে বাধ্য হয়ে পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে হয়েছে। অনেক দোকানি আবার অন্য পণ্য না কিনলে শুধু তেল বিক্রি করতেও রাজি হচ্ছেন না।
তিনি বলেন, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদের আগে সংকট আরও বাড়তে পারে।
মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সোনালি জাতের মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও বেড়েছে—গত সপ্তাহে ডজনপ্রতি ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১০০ থেকে ১১০ টাকায় উঠেছে।
নয়াবাজারের মুরগি বিক্রেতা নাফিউল ইসলাম বলেন, রমজানের শুরুতে চাহিদা কম থাকায় মুরগির দাম কমেছিল। এখন আবার চাহিদা বেড়েছে, তাই ঈদের আগে দাম কমার সম্ভাবনা কম।
বাজারদর নিয়ে টিসিবির তথ্য
সরকারের বিপণন সংস্থা Trading Corporation of Bangladesh-এর বাজারদরের প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন তেল, পাম ওয়েল, মসুর ডাল, জিরা, লবঙ্গ ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে আটা, দেশি পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা, দারুচিনি, লেবু, বেগুন ও শসার দাম কমেছে। অন্যান্য বেশ কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
সবজির বাজারে স্বস্তি
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় লেবু, শসা, কলা, পেঁয়াজ, আলু ও বেগুনসহ অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে।
বর্তমানে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আলুর দাম নেমে এসেছে ১৪ থেকে ১৮ টাকার মধ্যে। লেবুর হালি ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজারে টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও গাজর ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আমদানি মসলার দাম বৃদ্ধি
সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও ঈদকে সামনে রেখে আমদানি করা মসলার দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে।
মসলা ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে আমদানি মসলার দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে ৬০০ টাকার আলু বোখারা এখন হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। একইভাবে পেস্তা, কাজুবাদাম ও এলাচের দামও বেড়েছে।