ঢাকা | ১৫ মার্চ ২০২৬
এবারের ঈদযাত্রায় গাজীপুরের প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের শ্রমিক ভয়াবহ পরিবহনসংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত বাস না থাকায় এসব শ্রমিকের অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প যানবাহনে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হতে পারেন।
বিস্তারিত বিবরণ
রোববার প্রকাশিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানায়, গাজীপুর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বাসিন্দারা প্রতি বছর ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করেন। কিন্তু এবার ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলগামী বাসগুলোর অধিকাংশ টিকিট ঢাকাতেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার কাউন্টারগুলোতে কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না।
এ অবস্থায় পুলিশ সম্প্রতি গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত উত্তরাঞ্চলগামী বাস কাউন্টারগুলো সরিয়ে দিয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে সরাসরি কোনো বাস সার্ভিস কার্যত চালু নেই।
আশুলিয়া ইপিজেড, চন্দ্রা, বাইপাইলসহ গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এবার ঈদে বাড়ি যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিবহনব্যবস্থা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বিকল্প ব্যবস্থা
পরিবহন সংকটের কারণে অনেক শ্রমিক এলাকাভিত্তিকভাবে সংগঠিত হয়ে ২০ থেকে ৩০ জন মিলে ট্রাক, পিকআপ বা ঢাকার বিভিন্ন সিটি সার্ভিস বাস ও মিনিবাস রিজার্ভ করে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রেক্ষাপট
সরকার প্রতি বছর ঈদে লক্কড়ঝক্কড় বাস এবং খোলা ট্রাক বা পিকআপে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কম ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অনেক শ্রমিক ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া গণপরিবহনের সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৮ লাখ, গাজীপুর থেকে ৩ লাখ এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় ২ লাখ পরিবার মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সারা দেশে এ সংখ্যা ২২ লাখেরও বেশি পরিবার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
সমাপনী
এ পরিস্থিতিতে গাজীপুরের শ্রমিকদের ঈদযাত্রা সহজ করতে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ৫০০টি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বাস এবং আরও ৫০০টি বেসরকারি বাস বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।