দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ — ৩১ মার্চ ২০২৬
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের কবিরনগরের ২০ বছর বয়সী ফাহিম আহমেদ মুন্না ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর শোকে তার বাবা সৌদিতে আইসিইউতে ভর্তি হয়েছেন, আর মা দেশ থেকে লাশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন।
ফাহিম আহমেদ মুন্না সচ্ছল পরিবারে জন্মেছেন এবং একমাত্র সন্তান হওয়ায় পরিবারে বিশেষ আদর পেতেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব পাড়ি দেন, পরে লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে সমুদ্রে হারিয়ে যান। মুন্নাসহ ২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে খাদ্য ও পানির সংকটে ভাসতে ভাসতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছলেহ উদ্দিন লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং লাশ সরকারি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
গ্রিসের কোস্ট গার্ডের বরাতে জানা গেছে, ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে রাবারের একটি নৌকা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিগ্ভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং খাদ্য ও পানির সংকটে মৃতু্যবরণ করেন।
পরিবার ও গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুন্নার মা হেলেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, “আমার ছেলের লাশ যেন দেশে এনে দাফন করতে পারি, এটাই আমার শেষ চাওয়া।”