ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ আদায় নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা ও ব্যারাকপুরের সাবেক সংসদ সদস্য Arjun Singh দাবি করেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা Suvendu Adhikari রাস্তায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বক্তব্যের পর দেশজুড়ে সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে BBC Bangla।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্জুন সিং বলেন, “ক্যাবিনেট মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। রাস্তায় নামাজ পড়া বরদাস্ত করা হবে না। মসজিদে নামাজ পড়লে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু রাস্তায় পড়া যাবে না।”
তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর ভারতের বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিদ্ধান্তের পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মতামত উঠে আসে।
অর্জুন সিং আরও বলেন, গরু পাচার, চোরাকারবার এবং পুলিশের ওপর হামলার বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এর আগেও বিজেপির একাধিক নেতা রাস্তা দখল করে নামাজ আদায়ের বিরোধিতা করেছিলেন। বিশেষ করে গত বছর কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ আয়োজন নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। প্রথমে সেনাবাহিনী অনুমতি না দিলেও পরে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নামাজ আয়োজনের অনুমতি দেয়। তবে এ নিয়ে বিজেপি নেতাদের আপত্তি ছিল প্রকাশ্য।
সোমবার (১১ মে) পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একাধিক নির্বাহী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এসব নির্দেশনার লিখিত কপি সবসময় প্রকাশ করা হয় না।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলেও সেখানে নির্দিষ্টভাবে নামাজ বন্ধ করার কোনো উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের ভাইস চেয়ারম্যান Sheikh Abdul Selim বলেন, “কাটা মাংস ঢেকে বিক্রি করা ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের মতো কিছু নির্দেশনা সমর্থনযোগ্য।”