বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেছেন, ইসলামের বিজয় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, আদর্শিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্বগুণ অর্জনের মাধ্যমেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছে, এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করছে, যা অতীতের স্বৈরাচারী শাসনকেও হার মানিয়েছে। সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও গণভোটের রায়কে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করছে, যার পরিণতি শুভ হবে না।”
আজ জুম’আ বার (১৫ মে) চান্দগাঁও থানা আয়োজিত রুকন শিক্ষা শিবির থানা আমীর মোহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “একটি আদর্শ সমাজ গঠনে রুকনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ইসলামের সৌন্দর্য ও আদর্শ তুলে ধরতে হবে। বর্তমান সময় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, তাকওয়া, জনসম্পৃক্ততা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদেরকে সময়োপযোগী নেতৃত্বে পরিণত করতে হবে।”
নির্ধারিত বিষয়ের উপর আলোচনা পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে আদর্শিক চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে।”
এছাড়া শিক্ষা শিবিরে আরো আলোচনা পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খায়রুল বাশার।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মাওলানা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন।
শিক্ষা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন থানা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, থানা সেক্রেটারি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সরকার, থানা সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ ওমর গনি।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক, গাজী মো. ইসমাইল, আবদুল কাদের পাটোয়ারী, ড. জাকির হোসেন হাওলাদার, অধ্যাপক মো. ইসমাইলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।