“রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিশিষ্ট মেডিসিন ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রায়হান রাব্বানীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও স্টাফদের হেনস্তা করা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। ডাঃ রায়হান রাব্বানী একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক। করোনাকালসহ বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তাঁর অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
একজন রোগীর মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্বজনদের আবেগ ও কষ্ট আমরা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করি। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে চিকিৎসক, নার্স বা হাসপাতাল কর্মীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা চিকিৎসা পরিবেশ নষ্ট করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, অপমান ও কর্মস্থলে অনিরাপত্তার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত জীবনঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ বারবার তারাই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দক্ষ চিকিৎসকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে এবং স্বাস্থ্যখাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
স্বাস্থ্যসেবা একটি মানবিক ও সংবেদনশীল খাত। এখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ধৈর্য ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা অভিযোগ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত, কোনোভাবেই সহিংসতার মাধ্যমে নয়।
আমরা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি কার্যকর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”