এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাজনীতি ও রাষ্ট্র শাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া সরকারের আর কারও মধ্যে পরিবর্তনের তেমন কোন ছাপ নেই। সরকারের মন্ত্রী এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে পুরোনো রাজনৈতিক ভাষা ও চরিত্র পুর্ণমাত্রায় লক্ষণীয়। তিনি আজ সকালে রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে এবি পার্টি রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মিলিত অংশ আজ সংসদে। সরকার ও বিরোধিদল উভয়ই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। সংস্কার ও সুশাসন কীভাবে নিশ্চিত করা যায় এই সংসদে সে আলোচনা প্রাধান্য পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমরা দেখছি পুরোনো কায়দায় একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোঁড়াছু্ঁড়ি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার ফুলঝুরি। আমরা এও দেখছি উপজেলা পরিষদ ভবনে সংসদ সদস্যদের অফিস ও গাড়ি সুবিধার আলোচনায় উভয় পক্ষ আবার একজোট।
সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইনের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ ও বিজিবি’র যৌথ প্রতিরোধের প্রশংসা করে জনাব মঞ্জু বলেন, জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ঐক্যই আমাদের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ। সংসদে উত্থাপিত বাজেটের সমলোচনা করে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন ১০ ছুঁইছুঁই। তিন মাসে সরকার প্রায় অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ট্রেজারি বিল থেকে লোন করে ফেলেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনার পরিবর্তে সরকার অনবরত ঝুঁকি তৈরি করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আরো বেশি ঘাটতি ও ঋণ নির্ভর বাজেট জনগণকে সাময়িক বোকা বানানোর অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না। তিনি বলেন; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যায় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছেন। প্রটোকল কমানো, সময়ানুবর্তিতা ও অযথা প্রশংসা এড়িয়ে চলার রীতি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁর মন্ত্রী পরিষদ, সংসদ সদস্য, দলান্ধ আমলা গোষ্ঠী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তা অনুসরণের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। তিনি জাতীয় সংসদে পুশইনের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সর্বসম্মত নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানান।