১১ দলীয় বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে জনগণ স্পষ্টভাবে কিছু মৌলিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কারের মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব হ্রাস; জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন; উচ্চকক্ষে পিআরসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যকর করা। গণভোটে জনগণের বিপুল সমর্থন এই সংস্কারগুলোর প্রতি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন। গণভোটে যেসব সংস্কার নিয়ে জনগণের সমর্থন ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনীহা ও বিলম্ব জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য মনে করে, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে এবং বাইরে-উভয় ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম। জনগণের প্রত্যাশা হলো—তাদের মতামত, অধিকার এবং উন্নয়নের দাবি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ রয়েছে। খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং সামাজিক অস্থিরতার বিভিন্ন ঘটনা মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করছে। বাগেরহাট থেকে সমাবেশে আসার পথে কিছু ভাইয়ের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই সরকার জনগণের সরকার নয়, কর্তৃত্ববাদী সরকারের দিকে ধাবিত হয়েছে। গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে।