পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারও অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র, নিরাপত্তা বাহিনী এবং গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে **জানা সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)সাম্প্রতিক সময়ে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং যৌথভাবে প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের যোগসাজশে পাহাড়ে নতুন করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষ বাড়ছে।
গত এক বছরে শুধু রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে গোষ্ঠী সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৪ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। সেনা ও বিজিবি একাধিক অভিযান চালালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোকে অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছে। জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত কমে গিয়ে এখন তাদের মধ্যে “কৌশলগত সমঝোতা” তৈরি হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি বিক্ষোভ করেছে এবং ইউপিডিএফের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, এই গোষ্ঠীগুলো পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করে দিচ্ছে এবং সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধন এবং ক্ষমতাসীন দলের নীরব সমর্থনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন—অবিলম্বে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কঠোর অভিযান চালানো, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি মহল জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ টাস্কফোর্স হিসেবে মোতায়েনের পরিকল্পনা চলছে।