Daily Crisis Bd / অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
মেজর জেনারেল আমিনুল হকের দেশত্যাগের আশঙ্কা জনমনে প্রশ্ন, ন্যায়বিচার কি নিশ্চিত হবে?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আমিনুল হক, যিনি সেনাবাহিনীর ২১তম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের একজন সদস্য, তাঁর দেশত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক অবসরে যাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি তার দুই সন্তানকে ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং নিজেও বিদেশে যাওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন।
মেজর জেনারেল আমিনুল হক হলেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের ছোট ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি গোয়েন্দা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদনের নামে অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন। শুধুমাত্র এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তার অবৈধ সম্পদ ৩৫০ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন, গুম ও খুনের ঘটনায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে, যদিও এই অভিযোগ কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হয়নি।
২০১৬ সালে তিনি ডিজিএফআই এর ঢাকা ডেট থেকে বদলি হয়ে ইংল্যান্ডে ডিফেন্স অ্যাটাশে হিসেবে প্রেরিত হন। সেখানে তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ওপর নজরদারি এবং তথাকথিত হত্যাচেষ্টা পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, তবে তাতে তিনি তেমন সফল হননি বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পান। জুলাই অভ্যুত্থান দমনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্কের জন্ম হয়েছে।
সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন, তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক আশীর্বাদ ও পারিবারিক প্রভাবের কারণে পদোন্নতি লাভ করেছেন। মেজর জেনারেল জিয়াউল হাসানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাঁর নাম বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, মেজর জেনারেল আমিনুল হক অত্যন্ত চতুর ও প্রভাবশালী কর্মকর্তা; তিনি পর্দার আড়াল থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছেন, কিন্তু সরাসরি মিডিয়ার সামনে খুব কমই এসেছেন। ফলে তাঁর বহু কর্মকাণ্ড এখনো আড়ালেই থেকে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাঁকে রিমান্ডে এনে তদন্ত চালানো হলে দেশের সাম্প্রতিক সময়ের বহু গুম, খুন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
দেশের সচেতন নাগরিকরা এখন জানতে চান
“এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কি সহজেই বিদেশে পালিয়ে যেতে পারবে, নাকি রাষ্ট্র এবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর হবে?”
জনমনে একটাই দাবি
তার পাসপোর্ট বাতিল করে অবিলম্বে বিদেশগমন রোধ করা হোক এবং স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করা হোক।
1 Comment
কুলাঙ্গারে ভরা ভয়ংকর অপরাধীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক অভয়াশ্রমে পরিণত হওয়া একটা সংস্থা ! অত্যন্ত দুঃখ জনক !