Daily Crisis Bd
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫/অনলাইন ডেক্স, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ফুলপুরে একই ঘটনার চারটি গুরুত্বপূর্ণ নথি—এজাহার, সুরতহাল রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট ও পুলিশের চার্জশীট—এর মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা গেলেও আদালতকে বিভ্রান্ত করে আদেশ ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে আসামি জাকারিয়া ফকিরের পরিবারকে মানবেতর জীবনযাপনে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ফুলপুর থানার মামলা নং–১০, তারিখ ১৭/০৫/২০২৪ ইং, যেখানে বাদী হিসেবে রয়েছেন আব্দুস সালাম ফকির।জানা গেছে, আসামি জাকারিয়া ফকির,পিতা আবুল খায়ের ফকির গ্রাম পুরান নগর থানা ফুলপুর, ময়মনসিংহ, তিনি উচ্চ আদালতে মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করে এক বছরের জন্য জামিন লাভ করেন। কিন্তু বাদী পক্ষ পরবর্তীতে একটি তদন্তবিহীন জিডি দাখিল করে এবং সেই মেডিকেল রিপোর্ট গোপন রেখে আপিল বিভাগকে বিভ্রান্ত করে জামিন স্থগিত করাতে সক্ষম হয়। এর ফলে ১১ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাকারিয়া ফকিরের পরিবার।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুলপুর থানার পুলিশের এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংযোজন ও বিকৃত তদন্ত প্রক্রিয়া আদালতকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামি জাকারিয়া ফকির হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ভিকটিমের ডান পায়ের নিচে আঘাত করেন। এতে ভিকটিম মাটিতে পড়ে যায় এবং পরে গলা চেপে ধরা হয়। এজাহারে কোথাও বুকে আঘাত বা পেটে বসার কোনো উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, পুলিশ প্রস্তুতকৃত সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে—শুধুমাত্র ডান পায়ের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেখানে গলা চেপে ধরা, বুকে আঘাত কিংবা পেটে বসার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।মেডিকেল রিপোর্টের Final Opinion-এ উল্লেখ রয়েছে যে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায়নি এবং প্রাপ্ত আঘাত মৃত্যু ঘটানোর মতো যথেষ্ট ছিল না। অর্থাৎ, ভিকটিমের শরীরে পাওয়া আঘাত মৃত্যু ঘটানোর মতো গুরুতর ছিল না। প্রকৃত আঘাত কি ভাবে পেয়েছে তার প্রত্যক্ষদর্শীকে ঘরে ডেকে নিয়ে ছালাম ফকিরে দুই ছেলে সেনা সদস্য আবু নাঈম ও ব্যাংক কর্মকর্তা আবু সায়েম মামলার হুমকি দিয়ে তাকেও মুখ বন্ধ করে দেয়। পুলিশও পরিবারটির উপর কম নির্যাতন করেনি।যার প্রমান চার্জশীটে নতুন বিবরণ সংযোজন করেছে—ভিকটিম পড়ে গেলে জাকারিয়া ফকির নাকি ভিকটিমের পেটের ওপর বসে বুকে আঘাত করেছেন। পুলিশের দাবি, আসামিদের মারপিটের কারণেই ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের সাক্ষীদের জবানবন্দি তা প্রমাণ করে। কিন্তু এজাহার কিংবা সুরতহালে এসবের কোনো উল্লেখই ছিল না। এছাড়া মেডিকেল রিপোর্টের ভাষাও বিকৃত করে চার্জশীটে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ প্রকাশ্যে কোনো তদন্ত পরিচালনা করেনি। যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের থানায় ডেকে নিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আরও জানা যায়, জাকারিয়ার পিতা মাওলানা আবুল খায়ের ফকির (বড় হুজুর) ঘটনার সময় ফুলপুরে অবস্থান করছিলেন; তবুও তাঁকেও মামলার আসামি করা হয় এবং কারাবরণ করতে হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়া তাঁর স্ত্রী রোকেয়া খাতুন, যিনি একজন পর্দানশীন মহিলা—যার কাপড়ের সুতা পর্যন্ত কেউ দেখেনি—তাকেও কারাবরণ করতে হয়। এমনকি মামলায় শিশু জাকিয়া সুলতানাকেও বাদ দেওয়া হয়নি; পুলিশ ও বাদী আব্দুস সালাম ফকির তাকেও মামলায় জড়ান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “একদিন পুলিশ এসে ঘটনাস্থলের প্রতক্ষদর্শীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় যে, সত্য ঘটনা প্রকাশ করলে এই মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি করে দেওয়া হবে।” এতে সবাই ভয় পেয়ে মুখ বন্ধ করে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী আব্দুস সালাম ফকির ভালকী গ্রামের উমর খাঁ মেম্বারের মাথা ফাটিয়ে দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে পাহাড় এলাকায় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নিরীহ এই পরিবারটিকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছেন।
কতিপয় আরও কতক জন উল্লেখ করেন যে এই ছালাম ফকির পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে তার পরিবারের লোকজন সহ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।তার এই মিথ্যা মামলার দায়ে শাস্তি দাবি করছেন,তারা আরও বলেন এজাতীয় মামলা জাকারিয়া ফকিরও করতে পারতো যখন তার এক ভাই জুনায়েদ ফকির ১৭ সনে তাদের কারণে মৃত্যু হয়েছে।এমন হয়রানি ছালাম ফকিরও হতে পারতো।কিন্তু জাকারিয়া ফকিরের পরিবার অনেক ধৈর্যশীল। ছালাম ফকির ও তার ছেলেরা জাকারিয়া ফকিরের জায়গায় ও গাছগাছালি জোর করে দখলে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আমরা চাই এই পরিবারের লোকজনকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হউক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকরা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল আলমকে একাধিকবার ফোন করলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।অভিযুক্ত জাকারিয়া ফকির অভিযোগ করেন, থানার এসআই মুহাম্মদ শফিকুল আলম তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। ঘুষ না দেওয়ায়, মেডিকেল রিপোর্টে হত্যা সংঘটিত হয়নি বলার পরও আদালতে নাটক সাজিয়ে হত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে চার্জশীট দাখিল করা হয়। তিনি বলেন,
“আমরা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছি। আল্লাহ যেন সঠিক বিচার করেন।”
ফুলপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হাদী সাংবাদিকদের জানান,
“আমরা তদন্তে যা পেয়েছি তা বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি। আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। যদি আসামিরা জড়িত না থাকে, তারা আদালত থেকে মুক্তি পাবেন। থানায় কোনো ঘুষ লেনদেন হয় না।”
এদিকে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের দাবি, আব্দুস সালাম ফকির অবৈধভাবে ৬২ শতাংশ জমি নামজারি করার প্রতিবাদ করায় এবং ঘরের পাশে পাড় না বসিয়ে পুকুর পুনঃখননের কারণে তাদের বাড়ি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আব্দুস সালাম ফকির, তাঁর স্ত্রী ও কামাল মাস্টার মিলে জাকারিয়া ফকিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন আব্দুস সালাম ফকিরের ছেলে কামাল হোসেন নিজের ঘরে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। জানা গেছে, পূর্বেও রাগান্বিত অবস্থায় তাঁর এমন জ্ঞান হারানোর ঘটনা ঘটেছিল।
ঐ সময়ে ঘটনার কিছু ভিডিও মোবাইলে ধারণ করা হয়, সেই মোবাইল গুলো রহস্যজনক ভাবে চুরি হয়,এবং যারা ভিডিও করছেন তাদেরও মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে এমন একজন নাম প্রাকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকের কাছে বক্তব্য দেন।
জাকারিয়া ফকির আরও জানান, থানায় প্রতিকার চাইতে গেলে পুলিশ তাঁকে আটক করে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় থানায় লকআপে রেখে সাজানো মামলা দেওয়া হয়। বাদী পক্ষের দুর্নীতিমূলক আচরণের কারণে তাঁর পরিবারকে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করা হচ্ছে।
তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে আশা প্রকাশ করেন যে, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যেন তাঁর এই বিষয়টি নজরে নিয়ে মেডিকেল রিপোর্টসহ মামলার নথি পুনঃপর্যালোচনা করেন। তা না হলে এমন প্রতারক ব্যক্তির মাধ্যমে আরও বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং আদালতের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।