দেশজুড়ে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে দিন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন,
“তেলের দাম বাড়ানোর এখতিয়ার ব্যবসায়ীদের নেই। সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ পণ্য বিক্রি করলে সেটি সরাসরি আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।”
বাণিজ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পর থেকে বাজারে বেশ আলোচনার ঝড় উঠেছে। কারণ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতারা তেলের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন। এতে সাধারণ ক্রেতারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার এখনও তেলের দাম পুনঃনির্ধারণ বা সমন্বয় নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং বাজারে অস্থিরতা রোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার তদারকি টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে, এবং বিভিন্ন জেলা প্রশাসনকেও মূল্যতালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে— কোনো ব্যবসায়ী বা আমদানিকারক যদি সরকার ঘোষিত দামের বাইরে তেল বিক্রি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাজার নিয়ন্ত্রণের সংকেত
বাণিজ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্য বাজারে এক ধরনের ‘সিগন্যাল’ হিসেবে কাজ করছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশের অভ্যন্তরে সেই প্রভাব না ফেলতে চায়। কারণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার স্পষ্টভাবে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছে তারা যেন ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে জনজীবন অস্থির না করে।
সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একজন ক্রেতা বলেন,
“সরকার যদি নিয়ন্ত্রণ না নিত, তাহলে ব্যবসায়ীরা আরও দাম বাড়িয়ে দিতেন। এখন অন্তত একটা নিশ্চয়তা পাওয়া গেল যে দাম বাড়বে না।”
অন্যদিকে, কিছু খুচরা বিক্রেতা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু সরকারের নির্দেশ থাকলে তারা আগের দামে তেল বিক্রি করবেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্য শুধু বাজার স্থিতিশীলতার বার্তা নয়, বরং এটি এক ধরনের সরকারি নীতিগত সতর্কবার্তা, যা দেশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার যদি এ অবস্থান ধরে রাখতে পারে এবং নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করে, তবে তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।